এখন বাংলাদেশে অনলাইন ব্যবসা খুবই জনপিয়। আপনি যদি দ্রুত আপনার উন্নতি করতে চান তাহলে আপনাকে অনলাইনে ব্যবসায় আসতে হবে। এখন প্রায় সব ব্যবসা অলাইনের মাধ্যমে করা যায়। অনলাইন ব্যবসা হল মূলত অনলাইনের মাধ্যমে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া, বিভিন্ন সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহার করে ব্যবসা পরিচালনা করাকে অনলাইন ব্যবসা বলে। আপনি খুব সহজেই অনলাইনে প্রচুর অর্থ উপার্জন করতে পারেন।
আরও পড়ুন : ১০টি অপলাইন এবং অনলাইন করা যায় এরকম লাভজনক ব্যবসার আইডিয়া
আপনি যদি দ্রুত আপনার ব্যবসা স্কেল করতে চান তাহলে আপনাকে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে আপনার ব্যবসার একটি অনলাইন উপস্থিতি আছে। গবেষণায় দেখা গেছে যে অনলাইন ব্যবসা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই কারণে আপনি অনলাইন ব্যবসা অর্থাৎ আইটি-সংক্রান্ত ব্যবসা থেকে ভাল আয় করতে পারেন।
১) ডেলিভারি কোম্পানি
বাংলাদেশে অনলাইন ব্যবসা উত্থানের সাথে ডেলিভারি কোম্পানির চাহিদা রয়েছে, বিশেষ করে এফ-কমার্স, পণ্য সরবরাহ ছোট ব্যবসার জন্য একটি উল্লেখযোগ্য উদ্বেগ। ঢাকা শহরে অনেক ডেলিভারি কোম্পানি থাকলেও চাহিদার তুলনায় সংখ্যা কম। সুতরাং, এটি একটি দুর্দান্ত লাভজনক ব্যবসার আইডিয়া।
আপনি যদি ডেলিভারি ব্যবসায় টিকে থাকতে চান, তাহলে আপনাকে অবশ্যই প্রতিযোগীদের সমস্যা গুলো চিহ্নিত করতে হবে। নিশ্চিত করতে হবে যে আপনার কোম্পানি সেই ভুলগুলো না করে।
২) কসমেটিক্স অনলাইন শপ
বাংলাদেশে কসমেটিক্স দোকান অন্যান্য ব্যবসার তুলনায় দ্রুত বাড়ছে। মুলত মেয়েরাই এই ব্যবসার প্রধান কাস্টমার। এই ব্যবসা থেকে প্রায় ৪০% থেকে ৪৫% বা তার বেশি লাভ করা যায়।
ন্যূনতম বা কোন বিনিয়োগ ছাড়াই, আপনি একটি কসমেটিক্স ব্যবসা শুরু করতে পারেন। প্রথমে শুধু একটি ফেসবুক পেজ খুলুন, তারপর ভাল ব্র্যান্ডের প্রোডাক্ট সিলেক্ট করে আপনার পেজে আপলোড করুন। কাস্টমারদের সাবার সাথে শেয়ার করুন এবং বিক্রি করুন।
আপনি ভাল বিনিয়োগের মাধ্যমে এই ব্যবসাটি শুরু করতে পারেন। তাছাড়া আপনি কসমেটিক্স কমিশন বিত্তিক পণ্য বিক্রি করতে একটি কসমেটিক্স দোকানে যোগাযোগ করতে পারেন। আপনি শুধু আইটেম বিক্রি করে তাদের টাকা পরিশোধ করতে পারেন।
আনুমানিক লাভ: ২০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা
৩) ফ্যাশন হাউস (Fashion House)
বর্তমানে ফ্যাশন হাউস ব্যবসা একটি অত্যন্ত কার্যকর ব্যবসা। ফ্যাশন হাউস ব্যবসা শুরু করার আগে কিছু পরিকল্পনা করা উচিত।
যেহেতু বাংলাদেশ একটি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ যেখানে তৈরি পোশাকের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে, তাই একটি ফ্যাশন হাউস শুরু করা আপনার জন্য একটি ভাল বিকল্প হতে পারে। আমাদের গবেষণায় আমরা দেখেছি বাংলাদেশে অনলাইন ব্যবসা ফ্যাশন হাউসগুলো ভালো করছে। পাঞ্জাবি, শার্ট, সালোয়ার কামিজ, থ্রি-পিসের মতো সুন্দর পোশাক ডিজাইন করতে পারলে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হবে না।
এটি শুরু করতে, আপনার বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগের প্রয়োজন নেই। এমনকি আপনাকে প্রাথমিকভাবে একটি জায়গা ভাড়াও নিতে হবে না। শুধু ফেসবুক পেজ তৈরি করে, আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন এবং বিক্রি করুন। যেমন: (ummah bd) তারা প্রথেমে ফেসবুক পেজ দিয়ে শুরু করে ছিল। আপনি এই মত ফেসবুক পেজ তৈরি করতে পারেন. আপনি আরও গ্রাহক পেতে ফেসবুক মার্কেটিং করতে পারেন।
আনুমানিক প্রাথমিক বিনিয়োগ: ১০০০০-৩০০০০ টাকাই যথেষ্ট
আনুমানিক লাভ: প্রতি মাসে প্রায় ১০০০০-২০০০০০টাকা
৪) ইউটিউব চ্যানেল তৈরি
বাংলাদেশে ইউটিউব খুব জনপ্রিয়। বেশিরভাগ মানুষ ইউটিউবে ভিডিও দেখেন। কিছু গবেষণা দেখা যায় যে লোকেরা অন্য যেকোনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের চেয়ে YouTube-এ বেশি সময় ব্যয় করে। তাই লাভজনক অনলাইন ব্যবসার আইডিয়া হিসেবে ইউটিউব চ্যানেল শুরু করার চমৎকার সুযোগ রয়েছে।
আপনি একটি জনপ্রিয় চ্যানেল তৈরি করতে পারলে ইউটিউব চ্যানেল থেকে লাখ লাখ টাকা আয় করতে পারবেন। এই YouTube চ্যানেল খোলা খুবই সহজ, কিন্তু ভিডিও তৈরি করা এবং সঠিক নিশ নির্বাচন করা কঠিন। আপনি যদি বাংলাদেশে অনলাইন ব্যবসা ইউটিউবে ক্যারিয়ার গড়তে চান তবে আপনাকে অবশ্যই সঠিক নিশ বেছে নিতে হবে। এখন প্রশ্ন হল কিভাবে একটি নিশ নির্বাচন করবেন।
আপনার নিয়মিত ভিডিও আপলোড করা উচিত এবং যখন আপনার ভিডিওগুলিতে ৪০০০ ওয়াচ টাইম হবে এবং ১০০০ সাবস্ক্রাইবার হবে, আপনি তখনই আপনার চ্যানেলের AdSense মনিটাইজের জন্য আবেদন করতে পারবেন৷
৫) ই-কমার্স ব্যবসা
ইকমার্স ব্যবসা বর্তমানে বাংলাদেশে অনলাইন ব্যবসা এর মধ্যে একটি জনপ্রিয় এবং লাভজনক ব্যবসা। কিছু সপটয়ারের মাধ্যমে একটি ইকমার্স সাইট তৈরি করা বেশ সহজ। আপনি ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করার মাধ্যমে ব্যক্তিগতভাবে এটি করতে পারেন।
- আপনি যদি এটি নিজে না পারেন, আপনি নির্দিষ্ট বাজেটের মধ্যে আপনার ওয়েবসাইট ডিজাইন করার জন্য একজন ফ্রিল্যান্সার নিয়োগ করতে পারেন।
- আপনি যা যা বিক্রি করতে চান তা সিলেকশন করুন এবং সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রচার করুন। আপনি সামাজিক মিডিয়া থেকে বিক্রয় পেতে পারেন। একই সাথে, গুগলে এসইও করলে অর্গানিকভাবে গ্রাহক পাবেন।
- আপনি আপনার ই-কমার্স ওয়েব সাইটে বা অন্য কিছুতে শিশুর আইটেমও বিক্রিয় করতে পারেন। আপনি যদি এটি সঠিকভাবে করতে পারেন তবে এটি খুব অল্প বিনিয়োগে প্রচুর মুনাফা অর্জন করতে পারে।
৬) অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং
অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এখন সবচেয়ে লাভজনক ব্যবসা। আপনি কল্পনা করতে পারবেন না যে একজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার মাসে কত টাকা আয় করেন।
আমি এমন অনেককে চিনি যারা প্রতি মাসে ১০ হাজার ডলারের বেশি আয় করছেন শুধুমাত্র অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং থেকে।
অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর মাধ্যমে অনলাইন আয় সম্পর্কে আরও জানতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন।
৭) ব্লগিং
ব্লগিং সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যবসার মধ্যে একটি। যারা লিখতে পছন্দ করে তার সহজে ব্লগিং শুরু করতে পারেন।
আপনি যেকোনো বিষয়ে একটি ব্লগ সাইট শুরু করে এবং Google AdSense বা অন্যান্য বিজ্ঞাপন চ্যানেলের মাধ্যমে এটিকে মনিটাইজ করতে পারেন।
আপনার যা দরকার তা হল আপনার ওয়েবসাইটের জন্য ট্রাফিক বা ভিজিটর
ব্লগিং এর আয় নির্ভর করে ক্লিক প্রতি খরচ (CPC) এবং কীওয়ার্ডের সার্চ ভলিউমের উপর।
তাই, আপনি যদি দ্রুত এবং সহজে আয় করতে চান, তাহলে ব্লগ শুরু করার আগে আপনাকে অবশ্যই কীওয়ার্ড রিসার্চ করতে হবে।
যদি আপনি লিখতে পারদর্শী হন, আপনার পছন্দের বিষয়ে ব্লগিং শুরু করুন। ব্লগ মনিটাইজ দ্বারা উপার্জন করতে পারবেন।
৮) অনলাইন নিউজ পেপার
অনলাইন সংবাদপত্র আপনার জন্য একটি স্মার্ট ব্যবসায়িক আইডিয়া হতে পারে। আপনি আপনার অনলাইন ভাইরাল সংবাদ কভার করতে পারেন।
সোশ্যাল মিডিয়াতে নিউজ লিঙ্ক শেয়ার করে, আপনি আপনার ওয়েবসাইটে অধিক ট্রাফিক আনতে পারেন।
একই সময়ে, আপনি কম প্রতিযোগিতামূলক কীওয়ার্ড টার্গেট করতে পারেন।
যদি আপনি ব্যাপক ট্রাফিক পেতে শুরু করেন, তাহলে আপনার উপার্জনের আরও বৃদ্ধি পাবার সম্ভাবনা।
আপনি বিভিন্ন উপায়ে আপনার অনলাইন সংবাদপত্র মনিটাইজ করতে পারেন।
- গুগল অ্যাডসেন্স
- অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং
- পেইড কনটেন্ট
- স্পন্সর বিজ্ঞাপন
- চুক্তিভিত্তিক বিজ্ঞাপন
- পণ্য বিক্রয়
- সেবা প্রদান
৯) ফটোগ্রাফি
এই ২৩ শতকে ফটোগ্রাফি ভাল ব্যবসা হতে পারে। বিয়ে বা প্রায় প্রতিটি অনুষ্ঠানেই ভালো ফটোগ্রাফার দরকার হয়। ভাল করে ছবি তোলার জন্য। আপনি একটি বিনামুল্যের ফেসবুক পেজ চালিয়ে বাংলাদেশে অনলাইন ব্যবসা খুলতে পারেন।
আপনার তোলাগুলি ছবি আপলোড করুন যাতে লোকেরা আপনার কাজ পছন্দ করে।
অথবা অপনি আপনার কার্ড তৈরি করে আপনার বন্ধুদের এবং বিভিন্ন দোকানে বিতরন করতে পারেন।
যাতে তারা তাদের কোন অনুষ্ঠানে ছবি তোলান জন্য আপনাকে নক দিবে
প্রাথমিক বিনিয়োগ: একটি ভাল ক্যামেরা প্রয়োজন। এটি কিনতে ৫০০০০ টাকার মতো খরচ হবে।
মাসিক লাভ: ২০০০০-৪০০০০ টাকা
এছাড়াও পড়ুন: অনলাইনে আয় করার 25টি নির্ভরযোগ্য উপায়
১০) ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ ট্রেইনিং
বাংলাদেশে উচ্চ বেকারত্বের হারের কারণে ফ্রিল্যান্সিং এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশ্ব বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান অন্যতম।
আপনি আপনার ফ্রিল্যান্সিং এজেন্সির মাধ্যমে, তরুণ ও বেকারদের সাহায্য করার এই সুযোগটি গ্রহণ করতে পারেন এবং প্রচুর মুনাফা অর্জন করতে পারেন। ফ্রিল্যান্সিং এটি বাংলাদেশে একটি বিশাল বাজার। শত শত ফ্রিল্যান্সিং এজেন্সি এটি নিয়ে কাজ করে এবং এখন এটি একটি লাভজনক অনলাইন ব্যবসার আইডিয়া।
বেশিরভাগ ফ্রিল্যান্সিং ইনস্টিটিউটের মানের অভাব এবং তাদের প্রধান দুর্বলতা হল তারা মানসম্পন্ন ভাবে প্রশিক্ষণ দেয় না।
যদি আপনি এটি মাথায় রেখে কাজ করেন, তাহলে এটি আপনার ব্যবসাকে বাড়িয়ে তুলবে।
ফ্রিল্যান্সিং ট্রেইনিং সেন্টারগুলি এই সব প্রশিক্ষণ প্রদান করে:
- গ্রাফিক্স ডিজাইন
- ওয়েব ডিজাইন
- অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং
- ভিডিও এডিটিং
- অ্যাপস ডেভেলপমেন্ট
- 3D অ্যানিমেশন
- ডিজিটাল মার্কেটিং
- সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (এসইও)
আশা করি এই পোষ্ট থেকে আপনি চাইলে আপনার পছন্দের লাভজনক ব্যবসার আইডিয়া খুঁজে পেতে পারেন।
আজই বাংলাদেশে অনলাইন ব্যবসা ব্যবসা শুরু করতে পারেন।
Leave a Reply